• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১০:২২ অপরাহ্ন

×
সংবাদ শিরোনাম :
ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহাগের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ: খুলনা মহানগর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক সুজনের মায়ের ইন্তেকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত রামপালে কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে উত্যাক্তের প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে মা মেয়ে আহত অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো “সবুজ পৃথিবীর সন্ধানে” প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান খুলনায় তিনদিনের কর্মসুচি – শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী খুমেক হাসপাতালের সামনে থেকে ৯টি দেশি অস্ত্র উদ্ধার যশোরে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন “ত্রান চাইনা,টেকসই বেড়িবাঁধ চাই”  সরকার জরুরী ভিত্তিতে বেঁড়িবাঁধ সংস্কার করে জলবন্দি মানুষদের মুক্ত করবে-ভুমিমন্ত্রী  ঘূর্নিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছেন সরকার-ত্রান প্রতিমন্ত্রী মোঃ মহিববুুর রহমান

খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ১২ হাজার মামলার জট: দূর্ভোগে ২৪ লাখ মানুষ

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২
  • ২১৯ Time View

নেই আপিল ট্রাইব্যুনাল

♣ জনবল ও বিচারক সংকট

মো. সাহাবুদ্দিন মিয়া। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের বিল পাবলা এলাকার বাসিন্দা। মামলার পেছনে ঘোরাঘুরি করতে করতে তার মুখমন্ডল তামাটে বিবর্ণ হয়ে গেছে। নিজের জমি হারিয়ে দলিল-দস্তাবেজ বইতে বইতে, উকিলের পেছনে টাকা খরচ করতে করতে চরম হতাশায় নিমজ্জিত মানুষদেরই একজন। পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত ৪০ শতকের একমাত্র চাষের জমিটি প্রতিপক্ষের নামে রেকর্ড হয়েছে। রেকর্ড সংশোধনের জন্য ২০১৪ সালে খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। তিনি মামলার র্দীঘসূত্রতা ও ভোগান্তীর বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, এক একবার মামলার তারিখ ৫-৬ মাস পর নির্ধারণ হয়। ১ বছর পরেও তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। এভাবে এ মামলা নিয়ে গত ৮ বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরছি। প্রতিবার মামলার তারিখে বাড়ির খেত খামার ফেলে সকাল বেলায় কোর্টে আসতে হয়। সারা দিনের কাজ অন্য লোকদের টাকা দিয়ে করাতে হয়। কোর্টে আসার পর সারাদিন কোর্টে থাকতে হয়। আদালতে এসে পোহাতে হয় আরেক ঝামেলা। আদালতে তদ্বির না করলে নথি আসে না। সেরেস্তা থেকে নথি কোর্টে আনতে দিতে হয় ঘুষ। তারপরও বছরের পর বছর ধরে মামলা চলছে। এদিকে পৈতিৃকভাবে প্রাপ্ত জমিটি বেদখল হওয়ায় তা উদ্ধার করতে পারছি না। এখন জীবিকার তাগিদে অন্যের জমি বর্গা চাষ করছি। বৃদ্ধ মা-বাবাসহ ৭ জনের সংসারের ঘানি টানা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আমার পৈতিৃক সম্পত্তি আমি ভোগ করতে পারছি না, ভোগ করছে অন্য লোকে। আমি ভূমি অফিসের ভুলের মাসুল দিচ্ছি। আমার জীবনে এ মামলার পরিসমাপ্তি দেখে যেতে পারি কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। আইনের জটিল বিষয় এবং কাগজ পত্র আমি কিছুই বুঝি না, বুঝি শুধু ন্যায় বিচার। আমার সব দলিল কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও কেন এ ভোগান্তিতে পড়লাম ? করুন আকুতি অসহায় সাহাবুদ্দিনের।    

খুলনার দিঘলীয়া উপজেলার সেনহাটী ইউনিয়নের হাজীগ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশীদ শেখ। প্রতিপক্ষ জাল দলিল করে তার পৈতৃক সম্পত্তি রেকর্ড করে নিয়েছে। সেই সাথে তাদের পেশীশক্তির কাছে হারিয়েছেন জমির দখলও। বিষয়টি নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে খুলনার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করে ঘুরছেন কোর্টের বারান্দায়। মামলার নিষ্পত্তি হয়নি দীর্ঘ ৯ বছরেও। আব্দুর রশীদ শেখ বলেন, কবে হবে এ ভোগান্তির অবসান তাও কেউ বলতে পারে না। আমার এ জনমে শেষ হবে কিনা তা জানিনা। মামলার জন্য পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ মামলার প্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষের সাথে চলছে ফৌজদারী মামলাও। মামলা চালাতে গিয়ে দিনদিন নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। সরকার কি আমাদের এ ভোগান্তি দেখে না। আমাদের আকুতি কি তাদের কাছে পৌঁছায় না ?

খুলনা নগরীর লবনচরা সুইচগেট এলাকার মো. রুবেল কাজী খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ২০১৩ সালের জুন মাসে পর্চা ও মানচিত্র সংশোধনের জন্য মামলা করেন। তার ৩৫ শতক জমি অন্য একজনের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। যা তিনি খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে জানতে পারেন। ২০১৩ সালে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করলেও দীর্ঘ ৯ বছরেও তার মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতে আসেন মামলার তারিখ নির্ধারণ হয়, তিনি আদালতে হাজিরা দেন আবারও নতুন তারিখ নির্ধারণ করে আদালত। এভাবেই কেটে গেছে ৯টি বছর। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের ইট পাথরও যেন টাকা খায়। এখনকার কর্মচারীদের টাকা না দিলে মামলার তারিখ নির্ধারণ হয় না। সেরেস্তায় টাকা না দিলে ফাইল খুঁজে পাওয়া যায় না। আমার এ মামলা কবে নিষ্পত্তি হবে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউই জানে না।

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের ভোগান্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বটিয়াঘাটার বিজয় কৃষ্ণ মন্ডল ও তপন মন্ডল বলেন, বটিয়াঘাটা উপজেলার শৈলমারী মৌজার তাদের ২ একর জমির খাজনা পরিশোধ করতে গেলে জানতে পারেন জমিতে খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে একটি রেকর্ড সংশোধন মামলা চলমান রয়েছে। বাদী জনৈক হাসানুর রহমান ও মিজানুর রহমান ২০১৪ সালে মামলাটি দায়ের করে যার নং ১১৪৭/১৪। এ মামলায় ৭ জনকে বিবাদী করা হয়েছে যারা এখনও পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে কোন সমন পায়নি। এমনকি কোর্টে চেষ্টা করেও এ মামলার কোন নথি পাওয়া যাচ্ছে না। নথি না পাওয়ায় তারা মামলা পরিচালনা করতে পারছে না। তাদের মামলাটি কি অবস্থায় রয়েছে তাও তারা জানতে পারছে না। আর এমনই ভোগান্তিতে তারা জমির খাজনা না দিতে পারায় তাদের জমি কেনা বেচাও করতে পারছে না।

শুধুই সাহাবুদ্দিন মিয়া, আব্দুর রশিদ শেখ, রুবেল কাজী ও বিজয় কৃষ্ণ মন্ডলই নয়-তাদের মতো ১২ সহস্রাধিক বিচার প্রার্থী খুলনার আদালতের বারান্দায় প্রতিনিয়ত ঘুরছেন। এভাবে জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় কেটেছে প্রায় এক দশক। তবুও এসব বিচার প্রার্থীরা সুষ্ঠ বিচার না পেয়ে ভুগছেন। তাদের এ ভোগান্তির শেষ কোথায় তা কেউ জানেন না। খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে জমিজমা সংক্রান্ত মামলা নিয়ে দূর্ভোগে রয়েছেন জেলার ২৪ লাখ মানুষ। ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুানাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে মামলা জটেই ভোগান্তির যেন শেষ নেই। বছরের পর বছর আদালত অঙ্গণে ঘুরেও কোন মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। দিন দিন আরো দীর্ঘতর হচ্ছে মামলা জটের পরিসংখ্যান। খুলনার একমাত্র ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ১২ সহস্রাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মামলায় জর্জরিত ভূক্তভোগী মানুষ।

ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মামলা নিয়ে ক্ষোভের সাথে অনেকগুলো সমস্যার কথা উঠে এসেছে। তারা জানিয়েছেন মাঠ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা এবং অসতর্কতায় ভুলে ভরা ভূমি জরিপের খেসারত গুনতে হচ্ছে জমির মালিকদের। পরচা আর মানচিত্রে কেবল ভুল আর ভুল। কারও জমি পরচায় আছে তো মানচিত্রে নেই। আবার মানচিত্রে থাকলেও হয়তো তা পরচায় নেই। কাগজ আছে, দখল নেই। কারো আবার দখল আছে, কাগজ নেই। একজনের জমি রেকর্ড হয়েছে আরেকজনের নামে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মালিকের নাম ও জমির পরিমাণও ভুল লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার জমির দাগ নম্বরও ভুলভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। জরিপে জমির মালিকের নামের ভুল, নামের বানানে ভুল, জমির পরিমাণে ভুল এবং গরমিলসহ অসংখ্য ত্রুটি রয়ে যাচ্ছে। যুগের পর যুগ ভোগদখল করে এলেও জরিপে প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির নাম দেখানো হয়েছে। এসব খতিয়ানের মধ্যে সর্বশেষ করা বিএস খতিয়ানে ভুলের শেষ নেই। সামান্য ভুলেই বিচার প্রার্থীদের ভুগতে হচ্ছে বছরের পর বছর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুগ যুগেও মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। মামলা চলছে বংশ পরম্পরায়। জটিলতা নিরসনে সরকার ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেও পদে পদে রয়েছে নানারকম বিড়ম্বনা। এসব সমস্যা ও বিড়ম্বনার প্রতিকারে লোকবল বৃদ্ধি এবং আদালত ও বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে আদালত সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।

খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের সহকারী জিপি এ্যাড. নজরুল ইসলাম জানান, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা নিয়ে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। নতুন মামলা দাখিল করে কার্যক্রম শুরু করতেই এ ট্রাইব্যুনালে সময় লাগে প্রায় দেড় বছর। রেগুলার মামলায়ও ৬ মাস থেকে ১ বছর পর পর তারিখ নির্ধারিত হয়। এর পরেও ট্রাইব্যুনালের কর্মচারীদের খুশি না করলে মামলার নথি খুঁজে না পাওয়ার বিড়ম্বনাও রয়েছে। গত সপ্তাহে তার মক্কেলের একটি মামলার নির্ধারিত তারিখ ছিল। কিন্তু সে মামলার নথি আজ পর্যন্ত খুজে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণ হিসেবে এ আইন কর্মকর্তা জানান, খুলনায় একটি মাত্র ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। এ আদালতে প্রায় ১২ হাজার মামলা বিচারাধীন। কিন্তুট্রাইব্যুনালের কোন আপিল কোর্ট নেই। একই সাথে ট্রাইব্যুনালের স্টাফদের দায়িত্বে অবহেলা ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

খুলনা জেলা জজ আদালতের জিপি এ্যাড. আইয়ুব আলী শেখ জানান, আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরের এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর অতিক্রম হয়ে গেলেও এসব মামলা সঠিক সময়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। যে কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। এসব কারণে ভূমি জরিপ সংক্রান্ত বিভিন্ন দলিলাদি সংশোধনীর জন্য গঠিত দেশের ৪৪টি ভূমি জরিপ বা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলার জট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, ২০০৪ সালের সংশোধিত রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২ ধারায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ও ল্যান্ড সার্ভে আপিলের ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দেশে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালগুলোর নেতৃত্বে আছেন যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের বিচারক। ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল না থাকায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের রায়, ডিক্রি ও আদেশে সংক্ষুব্ধ বিচার প্রার্থীদের উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এতে বিচার প্রার্থীদের আর্থিক ব্যয় বাড়ছে এবং সময়েরও অপচয় হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে মামলা জট দীর্ঘদিনের সমস্যা। আসলে সংক্ষুব্ধদের আপিল করার সুযোগ না থাকায় জট দিন দিন বাড়ছে। মামলাজট নিরসনে পদক্ষেপ নেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাইব্যুনালে মামলা হারলেই উচ্চ আদালতে যেতে হয়। এতে উচ্চ আদালতেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়, সেই সাথে বিচার প্রার্থীদেরও চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই দ্রততার সাথে শুধু খুলনা নয় প্রতিটি জেলায় আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে মন্ত্রণালয়ের তদারকি ও মনিটরিং আরও বৃদ্ধি করা উচিত বলে মনে করেন এ সরকারী আইন কর্মকর্তা।

খুলনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খুলনার ৫৪টি আদালতে প্রায় ৫০ হাজারের উপরে মামলা রয়েছে। তার মধ্যে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার মামলা। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ও পেশকারসহ তাদের দূর্ণীতির কারণে মানুষ হয়রানি ও ভোগান্তীর শিকার হচ্ছে। তারা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘসুত্রতার কারণে মামলা সঠিক সময়ে নিস্পত্তি হচ্ছে না। কোর্ট কর্মচারীদের টাকা না দিলে মামলার তারিখ নিদিষ্ট সময়ে দিতে চায় না। এসব অন্যায়ের কারণে অনেক বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল অনেক আগে থেকেই বর্জন করেছেন। ইতিমধ্যেই এসব বিষয়ে আমরা আইনমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করেছি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে খুলনা বারের আইনজীবীরা সাধারণ সভা করে এসব অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ আদালতে নতুন বিচারক নিয়োগ না হচ্ছে ততদিন আমরা আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরও জানান, গণতন্ত্রের মানস কন্যা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে বিচার প্রার্থীদের দূভোগ লাঘবের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে প্রধান বিচারপতিও সারাদেশের ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন। আমরাও তাই চাই। সকল আদালতের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ না। যে সকল আদালতের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ আছে তার মধ্যে অন্যতম ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল। আমরা আইনজীবী সমিতি এবং বিজ্ঞ বিচারকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কিভাবে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায় সে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আশা করছি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এ আইনজীবী সমিতির নেতা জানান, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের কোন আপিল আদালত নেই বলেই মানুষ আরো বেশি বিপদগ্রস্থ হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের দাবি যতক্ষন পর্যন্ত আপিল আদালত না হচ্ছে জেলা জজকে দায়িত্ব দিয়ে অন্তবর্তীকালীন আপিল বোর্ড গঠন করা যায় কিনা তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। তা না হলে হাইকোর্টে গ্রাম গঞ্জের মানুষ সব সময় যেতে পারেন না। একাধিক ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল করে মামলা ভাগ করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। তাহলে বিচারপ্রার্থীরা এ হয়রানি ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে বলেও মনে করেন তিনি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ওলিউল্লাহ হাসানাত জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পার হলেও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের আপিল আদালত গঠিত না হওয়া খুবই হতাশার। খুলনাতে আপিল আদালত থাকলে ট্রাইব্যুনালের বিচারে সংক্ষুব্ধরা খুলনাতেই আপিল করার সুযোগ পেতো। এখন তাদের উচ্চ আদালতে যেতে হচ্ছে। বিচার প্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আপিল আদালত স্থাপন করা উচিত বলে মনে করেন এই আইনের অধ্যাপক।

খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলার জট এবং বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এ্যাড. বাবুল হাওলাদার জানান, মামলার দীর্ঘসূত্রতার দরুন একজন বিচারপ্রার্থীর যেমন সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে, তেমনি পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কখনও কখনও মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় জমির দখল নিয়ে বাদী বিবাদীরা ঝগড়া-বিবাদের মাধ্যমে ফৌজদারী অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের ফৌজদারী মামলার অধিকাংশই জমি-জমা সংক্রান্ত বিবাদ সংঘটিত হচ্ছে। অন্যদিকে এসব মামলার পিছনে দিনের পর দিন সময় ব্যয় হওয়ার কারণে বিচার প্রার্থীরা নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে এবং পরিবারকে সময় দিতে পারছে না। যার ফলে এর প্রভাব পড়ছে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও। তাই অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একাধিক ট্রাইব্যুনাল এবং আপিল কোর্ট গঠন করে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করা উচিত বলে মনে করেন এ নাগরিক নেতা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: BD IT SEBA