সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

নগরীতে মহিলা অধিদপ্তরের দেয়াল মারাত্নক ঝুঁকিপূর্ণ, আতংকে এলাকাবাসী

মো. শহীদুল হাসান :
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২
  • ২০৬ পড়েছেন

খুলনা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের পুরাতন ও জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীর মারাত্নক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোন সময় এ প্রাচীর ধ্বসে বড় ধরণের দূর্ঘটনা এবং প্রাণহানি ঘটার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী একটি সংস্থার সীমানা প্রাচীর এভাবে বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে এলাকাবাসী। এ অবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন তারা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেয়ালটি অপসারণের দাবি করছেন স্থানীয় মানুষসহ নাগরিক নেতৃবৃন্দ।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, মহিলা অধিদপ্তরের আওতাধীন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় নগরীর শেরে বাংলা রোডে অবস্থিত। এ প্রতিষ্ঠানের উত্তর পাশের দেবেন বাবু রোড সংলগ্ন সীমানা প্রাচীরটি প্রায় এক দশক ধরে পুরাতন ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দেয়ালটির পলেস্তরা অনেক আগেই খসে পড়েছে। অনেক জায়গায় দেয়ালের ইটও নেই। যে কোন মুর্হূতে দেয়ালটি ভেঙে পড়তে পারে। এ সীমানা প্রাচীরের পাশ দিয়ে স্থানীয় কয়েকটি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে। একই সাথে মারাত্নক ঝুঁকিপূর্ণ দেয়ালের পাশের রাস্তা দিয়ে এ এলাকার লোকজন যাতায়াত করে। এলাকাবাসী অনেকদিন যাবত কর্তৃপক্ষকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাচীরটি সংস্কার বা অপসারণ করার অনুরোধ করে আসছে। তাতেও কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দেয়ালটি ধ্বসে যেকোন সময় প্রাণহানি বা দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা নিয়ে স্থানীয়রা চলাচল করছে।

মহিলা অধিদপ্তরের ঝুঁকিপূর্ণ দেয়ালের বিষয়ে দেবেন বাবু রোড এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ মনজুরুল হক জানান, দেয়ালটি অনেকদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মহিলা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ দেয়ালটি যে কোন সময় ধ্বসে যে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে। দেয়ালের পাশের দেবেন বাবু রোডটি দিয়ে শহীদ শেখ আবু নাসের মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অত্র এলাকার কমলমতি শিশুরা আসা যাওয়া করে। তাই যে কোন দূর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত দেয়ালটি অপসারনের দাবি জানাচ্ছি।

মহিলা অধিদপ্তরের ঝুঁকিপূর্ণ দেয়ালের বিষয়ে শহীদ আবুল স্মৃতি সংঘের সভাপতি ও নাগরিক ফোরাম খুলনার ২০নং ওয়ার্ডের সভাপতি চ. ম. মুজিবর রহমান জানান, অনেকদিন যাবত ঝুঁকিপূর্ণ এ দেয়ালটি মহিলা অধিদপ্তর অফিস কোন সংস্কার বা অপসারণ করছে না। সরকারের একটি সংস্থার দেয়াল এভাবে বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে কর্র্র্র্র্তৃপক্ষের তেমন কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। দেয়ালের পাশের দেবেন বাবু রোড দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার হাজার হাজার লোকজন এবং যানবাহন যাতায়াত করে। দেয়ালটির বর্তমান যে অবস্থা তাতে করে যেকোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে। এতে করে মূল্যবান জীবনহানিসহ যে কোন বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে। তাই কর্তৃপক্ষের নিকট অতিসত্ত্বর দেয়ালটি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দেবেন বাবু রোড এলাকার অধিবাসী আবুল কালাম আজাদ কামাল বলেন, মহিলা অধিদপ্তরের দেয়ালটি অনেক পুরাতন। কর্তৃপক্ষ অনেকদিন ধরে দেয়ালটির কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি। দেয়ালটির প্লাস্টার নেই, বিভিন্ন জায়গা থেকে ইট খসে পড়ে গেছে। বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার হাজার হাজার লোক দেয়ালের পাশের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। ঝুঁকিপূর্ণ দেয়ালটি ধ্বসে যে কোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেয়ালটি অপসারণের দাবি জানান এ আওয়ামী লীগ নেতা।

জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক হাসনা হেনা জানান, অতি শীঘ্রই মহিলা অধিদপ্তরের এ কার্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তারপরও দেয়ালটি অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমি উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করবো। যাতে করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেয়ালটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

খুলনা উন্নয়ণ সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, সরকারি একটি সংস্থার অফিসের দেয়াল অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকবে এটা হতে পারে না। অনেক পুরাতন দেয়ালটি অনেকদিন ধরেই এ অবস্থায় রয়েছে। দেয়ালটির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এখানে অবহেলার কোন সুযোগ নেই। তা নাহলে যে কোন সময় যে কোন ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে। মূলবান প্রাণহানি এড়াতে দেয়ালটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণের দাবি জানান এ নাগরিক নেতা।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে খুলনায় পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো) লিমিটেডের সীমানাপ্রাচীর ধসে বয়রা করিমনগর এলাকার তামিম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ঐ ঘটনায় আহত হয় আরও দুই শিশু। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মারাত্নক ঝুঁকিপূর্ণ সীমানা প্রাচীর ধ্বসে আবারও কোন মানুষের প্রাণহানী না ঘটে সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরনের আরো সংবাদ

Categories

© All rights reserved © 2019 LatestNews
Hwowlljksf788wf-Iu