• E-paper
  • English Version
  • মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

×

সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হাফিজ হতে পারে দেশের সম্পদ : বিত্তবান ও সরকারী-বেসরকারী সহযোগীতা প্রয়োজন

  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ৩২৮ পড়েছেন

খুলনার মেধাবী উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হাফিজুর রহমান তালুকদার। PKCSBD ক্ষুদে ক্রিকেটারের সন্ধানে বাংলাদেশ ট্যালেন্ট হ্যান্টে হাফিজ সেরা বিশ স্পিনারের মধ্যে স্থান পেয়েছিলো। বাংলা ট্রাক একাডেমির এই অফস্পিনার ক্রিকেটকে ভালোবেসে আরো এগিয়ে যেতে চায়। ক্রিকেটকে সঙ্গী করে দেশের জন্য অবদান রাখার প্রত্যয় রয়েছে তার। ক্রিকেটার হিসেবে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে জাতীয় দলের অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজকে আইডল মনে করে। মিরাজকে আদর্শ হিসেবে নিয়ে নিজেকে গড়ে তুলে দেশের ক্রিকেটের একজন হওয়ার প্রত্যাশা তার। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা ও দারিদ্র্যতা হাফিজের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসারের অভাব অনটনে পরিবাবের সদস্যদের আহার যোগাড় করতেই যেখানে দিন আনতে পানতা ফুরায় সেখানে ক্রিকেট খেলা হাফিজের জন্য কষ্টদায়ক বিলাসিতা। তবুও শত কষ্টের মধ্যেও ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগের কারণে আকঁড়ে রয়েছে ক্রিকেটকে। দুুঃখ-কষ্টের জীবনে এক রকম হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে উদীয়মান ক্রিকেটার খুলনার হাফিজ। ক্রিকেট প্রেমীদের অনুকম্পা ও বিত্তবান এবং সরকারী-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতা পেলে প্রতিভাবান এই কিশোর ক্রিকেটার ভবিষ্যতে দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে।

জানা গেছে, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের কোলঘেষা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা উপজেলার দিগরাজ ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় জন্ম হাফিজুর রহমান তালুকদারের। তার পিতা মিজান তালুকদার রানা স্থানীয় একটি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির কর্মচারীর কাজ করেন। পিতার আয়েই কোন রকমে চলে তাদের পরিবারের ৫ সদস্যের সংসার। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে হাফিজই ছিল তার পিতার ভবিষ্যত ভরসা। কিন্তু ছোট বেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি অদম্য আগ্রহ তার পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলা নেশায় পরিণত হয়। প্রথম দিকে গ্রামের পাড়ায় টেলিভিশনে মুসফিকুর রহীম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিং প্রতিভা তাকে আকৃষ্ট করে। স্থানীয়ভাবে পাড়ার মাঠে-ঘাটে পাড়ার সহপাঠীদের সাথে তার ক্রিকেট খেলার শুরু হয়। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অফস্পিন বোলিংয়ে আকৃষ্ট হয়ে নিজেকে অফস্পিনার হিসেবে গড়ে তুলতে মনোযোগী হয় হাফিজ। পরে স্কুল ক্রিকেটে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে খেলার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। ২০১৬ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে সে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ ও খেলা অব্যাহত রেখেছে। ২০২০ সালে খুলনায় স্কুল ক্রিকেট খেলার সুবাদে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের কৃতি খেলোয়াড় খুলনার মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে পরিচয় হয়। তখন মিরাজ তাকে অফস্পিন বিষয়ে উন্নতির জন্য অনেক পরামর্শ ও উপদেশ দেয়। এবং নিজের পারফরমেন্স বাড়াতে কিছু টিপসও দেয়। মিরাজের সাথে তার দেখাও হয়েছে কয়েকবার। মিরাজ তাকে দিয়েছেন সাপোর্ট। মিরাজ তার প্রেরনা। যা থেকে হাফিজ নিজেকে দেশের তারকা খেলোয়াড় অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের মতো গড়ে তুলতে মানসিকভাবে উদ্বুদ্ধ হয়। ক্রমান্বয়ে মিরাজ হয়ে উঠে হাফিজের ক্রিকেট আইডল।

১৮ বছরের ক্রিকেটার হাফিজ এখন খুলনার আহসানউল্লাহ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। কিন্তু পরিবারের অভাব অনটনের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেটকে চালিয়ে নেওয়া দূঃসহ হয়ে পড়েছে হাফিজ ও তার পরিবাবের জন্য। ক্রিকেট এমনিতেই একটি ব্যয় বহুল খেলা, দারিদ্র্য পরিবারের ছেলেদের জন্য সেটা আরও কঠিন। স্বাভাবিক ভাবেই নিজের দৃঢ় মনোবলে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া দরিদ্র হাফিজ পাননি পরিবার থেকে কোনো সহায়তা। ছেলের স্বপ্ন ক্রিকেটার হবেন কিন্তু মা সালাম বেগম ও বাবা মিজান তালুকদার রানা সেটা চাইতো না, কারন অভাব যে হাফিজদের ঘরের নৃত্য দিনের সাথী। ক্রিকেট খেলার জন্য মা বাবার কাছ থেকে দূরে সরে আসা এই ছেলে থাকতো খুলনা নগরীর দরগা আবাসিক এলাকায় মামার বাড়িতে। মোংলা শান্তিনগর আবাসিক এলাকায় বড় হওয়া হাফিজ স্বপ্ন দেখেন অনেক দূর যাওয়ার। ক্রিকেটার মিরাজের মতো হতে সব কষ্ট করতে রাজি হাফিজ। তবে সে জানে স্বপ্ন সত্যি হয় না। তবুও মন মানতে চায় না। কেন দারিদ্র্যতা নামলো হাফিজের জানালায়। হাফিজ পুড়ে যায়। রোদে পুড়ে ছাঁই হয়। অভাবের তাড়নায় মন খারাপ করে, তবে হাল না ছেড়ে চালিয়ে যাচ্ছেন ক্রিকেট। ইতিমধ্যেই হাফিজ ঢ়শপংনফ ক্ষুদে ক্রিকেটারের সন্ধানে বাংলাদেশ ট্যালেন্ট হ্যান্টে সেরা বিশ জন স্পিনের মধ্যে স্থান পেয়েছিলো। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বর্তমানে সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন প্রতিষ্ঠিত রাজশাহীর বাংলা ট্রাক একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ব্যয়বহুল এ পথচলায় পরিবার থেকে কোন সহায়তা না পাওয়ায় এই অফস্পিনার সম্ভাবনাময় তরুন ক্রিকেটার অর্থনৈতিক অভাব অনটনে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

একান্ত সাক্ষাৎকারে কিশোর ক্রিকেটার হাফিজ জানান, জাতীয় দলের ক্রিকেটার মেহেদি হাসান মিরাজ তার আইডল। তাকে অনুসরণ করেই যাত্রা করেন। সুযোগ পেলেই দেখা করেন মিরাজের সঙ্গে। নিতে চান টিপস আর ভবিষ্যতে জাতীয় দলে জায়গা পেলে দলকে উপহার দিতে চান নিজের সেরা ক্যারিয়ার। হাফিজ বলেন, ‘আমি দরিদ্র ঘরের সন্তান হয়ে জন্ম নিয়েছি। কোচ সারাফাত স্যারসহ আমার বন্ধুরা আমাকে খুব দেখভাল করেন। আমার কষ্টে ব্যথিত হন সবাই। আমাকে ক্রিকেটের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন সারাফাত স্যার।’

অনেক পরিশ্রমের বিনিময়ে এগিয়ে চলা হাফিজ ক্রিকেট খেলার জন্য সহায়তা পেয়েছেন তার ক্রিকেট গুরু সারাফাত স্যারের কাছে। তিনি এই হাফিজের সকল খরচ বহন করে ছেলেটিকে মানুষিক শক্তি দিয়েছে। খুলনা আহসানউল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু তাকে পড়াশোনায় সাহায্য করে চলেছেন। দিনশেষে হাফিজ যেন আর তবুও পেরে উঠছে না। একজন ক্রিকেটারের অনেক খরচ, দেওয়া যাচ্ছে না সামাল।

কঠোর পরিশ্রমী এই হাফিজ স্বপ্ন দেখেন, তবে স্বপ্ন তার ধোয়াশার চাঁদরে ঢাকা। মেহেদি হাসান মিরাজের মতো হতে চাওয়া কঠোর পরিশ্রমী হাফিজ একদিন বাংলাদেশ দলে খেলবেন। হাফিজ এর কারনে মংলা দিগরাজ শান্তিনগর আবাসিক এলাকার নাম উজ্জ্বল হবে। হাফিজদের স্বপ্নের কারনেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, তবে হাফিজদের স্বপ্নের বাধা দারিদ্র্যতা, যেখানে ক্রিকেট হারিয়ে যায়, হাফিজরা হারিয়ে যায়।

প্রশিক্ষক সাফায়াত হোসেন জানান, হাফিজ একজন ভালো মানের ক্রিকেটার। তার স্বপ্ন জাতীয় দলের খেলা। দরিদ্র ঘরের সন্তান হওয়াই এটা তার অনেকটা বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে হাফিজের এত কষ্ট করতে হবে না। হাফিজের স্বপ্ন মেহেদী হাসান মিরাজের মতো ক্রিকেটার হয়ে জাতীয় ক্রিকেটে বড় অবদান রাখা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে হাফিজ।

খুলনা আহসানউল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু হাফিজ সম্পর্কে জানান, হাফিজ অত্যন্ত মেধাবী সম্ভাবনাময় একজন ক্রিকেটার। তার স্বপ্ন জাতীয় দলে খেলে দেশের জন্য অবদান রাখা। তবে আর্থিক অনটন তার এ স্বপ্ন পূরণে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ক্রিকেট অনেক ব্যয় বহুল একটি খেলা। এ খেলা চালিয়ে যেতে অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তার দরিদ্র পিতা-মাতার পক্ষে এ খরচ বহন করা কঠিন। তাই সমাজের বিত্তবান এবং সরকারী-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতা পেলে প্রতিভাবান এই কিশোর ক্রিকেটার ভবিষ্যতে দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে। হাফিজের মতো মেধাবী খেলোয়াড়দের সহায়তায় এগিয়ে আসলে তারা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে বলে মনে করেন এ তিনি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: BD IT SEBA