• E-paper
  • English Version
  • মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন

×

সংবাদ প্রকাশের জের : তেরখাদায় অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক মুক্তিযোদ্ধা গাউস মোল্লার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০২৩
  • ১৩৯ পড়েছেন

গাউস মোল্লা : ফাইল ছবি 

খুলনার তেরখাদা উপজেলায় অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক মাত্র ৮ বছর বয়সে ভারতে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন মর্মে সনদ জমা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত গাউস মোল্লার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান ২৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার মো. আব্দুর রউফ, তেরখাদা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার বাবুল মন্ডল ও বারাসাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে এম আলমগীর হোসেন। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ মার্চের মধ্যে মতামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকায় ‘‘খুলনায় ৮ বছর বয়সে ভারতে ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ? তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি’’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সমগ্র খুলনা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সচেতন মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তেরখাদা উপজেলা প্রশাসন এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তেরখাদা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ‘খুলনায় ৮ বছর বয়সে ভারতে ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা’ শীর্ষক সংবাদ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশের পর উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের কোলা পাটগাতী গ্রামের মো. ইমান উদ্দিন মোল্লার ছেলে গাউস মোল্লাকে তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান শুনানীর জন্য ডাকেন। শুনানীতে গাউস মোল্লা মুক্তিযোদ্ধা সনদের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমান দাখিল করেন। সেখানে ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গাউস মোল্লাকে প্রদত্ত জাতীয় পরিচয় পত্র (আইডি নং-১৯৬৩৪৭৯৫১২৭৪৬৭৩৪৩) রয়েছে। যেখানে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী জাতীয় পরিচয় পত্রের আইডি নম্বরের প্রথম ৪টি সংখ্যা জন্ম সাল নির্দেশ করে। সে মোতাবেক গাউস মোল্লার জন্ম সাল ১৯৬৩ সালে হওয়ার কথা। কিন্তু উক্ত পরিচয় পত্রে গাউস মোল্লার জন্ম সাল ১৯৫২ সালের ১লা জানুয়ারি দেয়া রয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গাউস মোল্লাকে প্রদত্ত স্মার্ট জাতীয় পরিচয় পত্রে (আইডি নং-৭৭৭২৯১৩০৫৪) জন্ম সাল ১৯৬৩ সালের ১লা জানুয়ারি উল্লেখ রয়েছে। তার ২টি জাতীয় পরিচয় পত্রে ভিন্ন ভিন্ন জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে। এতে করে গাউস মোল্লা জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ জালিয়াতি করেছে বলে সন্দেহ দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন উপজেলা নির্বাচন অফিসে গাউস মোল্লার জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্ম তারিখ যাচাইয়ের জন্য পত্র দিয়েছেন। সেই সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, আমি গাউস মোল্লার মুক্তিযোদ্ধা সনদের সঠিকতা যাচাই বিষয়ে তদন্তের চিঠি পেয়েছি। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যের সাথে করনীয় বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আগামী রবিবার থেকে আমরা তদন্তের কাজ শুরু করবো। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।

তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি তেরখাদার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ৭ মার্চের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে গাউস মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কোন সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: BD IT SEBA