×

খুলনায় গ্রীনবাংলা হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে প্লান বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগ

  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১৮ জুন, ২০২৩
  • ২৬৪ পড়েছেন

♠  অননুমোদিত স্থাপনা ভেঙে ফেলা অন্যথায় নকশা বাতিলের নির্দেশ

নগরীর শেরেবাংলা রোডে গ্রীনবাংলা হাউজিংয়ের প্লান বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুলনা উন্নয়ন কতৃর্পক্ষের (কেডিএ) নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ না করায় জমির মালিক শাকিল আহমেদ রাজা ও গ্রীনবাংলা হাউজিংসহ সংশ্লিষ্টদের অননুমোদিত স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশসহ শোকজ নোটিশ দিয়েছে কতৃর্পক্ষ। অন্যথায় নকশা বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের ৩০৩ শেরেবাংলা রোডে রাবেয়া ভবন নামে সেমি বেজমেন্টসহ ৯তলা বাণিজ্যিক-কাম আবাসিক বহুতল ভবনের নির্মান কাজের অনুমোদন দেয়া হয়। নির্মাণ কাজের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবনের সামনে শেরে বাংলা রোডের দিকে ৫ফুট, ভবনের দক্ষিণ দিকে রাস্তা সম্প্রসারণসহ ১২ ফুট ১০ ইঞ্চি, ভবনের উত্তর দিকে ৪ফুট খালি জায়গা রেখে এবং সেমি বেজমেন্টসহ ভবন নির্মাণের নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু তারা কেডিএর অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবনটি নির্মাণ না করে অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রীণবাংলা হাউজিং ও শাকিল আহমেদ রাজা গংরা ভবনের সামনে শেরে বাংলা রোডের দিকে ৫ ফুটের কম রাখা হয়েছে। ভবনের দক্ষিণ দিকে রাস্তা সম্প্রসারণসহ ১২ফুট ১০ ইঞ্চি স্থলে মাত্র ৪ফুট জায়গা রেখে নির্মাণ কাজ করেছে। এছাড়া ভবনের উত্তর দিকে ৪ ফুটের স্থলে ৩ফুট ৩ইঞ্চি জায়গা রেখে ভবন নির্মাণের কাজ করে। এমনকি ভবনটিতে সেমি-বেজমেন্ট নির্মাণের নির্দেশনা থাকলেও তা করা হয়নি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে কেডিএ কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শনে নকশা বহির্ভূত নির্মাণ কাজ করার অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে গত ১১মে কেডিএ কর্তৃপক্ষ জমির মালিক শাকিল আহমেদ রাজা ও গ্রীনবাংলা হাউজিংসহ সংশ্লিষ্টদের অননুমোদিত স্থাপনা ০৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশসহ শোকজ নোটিশ দেয়। কেডিএ কর্র্তৃপক্ষের শোকজ নোটিশ পাওয়ার প্রায় দেড় মাস সময় অতিবাহিত হলেও গ্রীণবাংলা হাউজিং ও শাকিল আহমেদ রাজা গংরা নোটিশের কোন জবাব দেয়নি। এমনকি তারা কাজও বন্ধ করেনি।এদিকে, শোকজ নোটিশের জবাব যথাসময়ে না দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। একইসাথে কেডিএ কতৃর্পক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অননুমোদিত স্থাপনা ভেঙে ফেলাসহ ভবন নির্মাণের নকশা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা। একই সাথে ওজোপাডিকো খুলনার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ করা হয়েছে।

জমির মালিক শাকিল আহমেদ রাজার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের ভবনে নকশা বহির্ভূত কোন কাজ করা হয়নি। তবে কেডিএ থেকে শোকজ নোটিশ পেয়ে আমরা যথাযথভাবে জবাব দিয়েছি। সেই সাথে আমরা ভবন নির্মাণের কাজও করে যাচ্ছি।

ওজোপাডিকো খুলনার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ময়নুদ্দিন জানান, কেডিএ’র চিঠি অমরা পেয়েছি। তবে এখই নির্মাণাধীন জাফির টাওয়ারের বিদ্যুৎ আমরা বিচ্ছিন্ন করছি না। পরে চিন্তাভাবনা করা যাবে।

ভবনটি নির্মাণকারী গ্রীনবাংলা হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল আহম্মেদ জানান, নগরীর ৩০৩ শেরেবাংলা রোডে জাফির টাওয়ার ভবনটির জমিটি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান ছিলো। পরে মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ায় কেডিএ থেকে পুর্বের অনুমোদিত প্লান সংশোধন পূর্বক পুণঃ অনুমোদনের আবেদন করা হয়। কেডিএ কর্তৃপক্ষ আবেদন গ্রহণ করে পূর্বের অনুমোদন সংশোধনপূর্বক পুনরায় ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু পুণঃঅনুমোদনের চূড়ান্ত কপি আমরা এখনও হাতে পায়নি। তবে দ্রুতই কেডিএ থেকে অনুমোদনের রিভাইজ কপি পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, ভবনের নির্মাণ কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। অনুমোদনের কপি পাওয়ার পর পুনরায় কাজ শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

জমির মালিকের চাচাতো ভাই এবং প্রতিবেশী সাঈদ আহমেদ জানান, নির্মাণাধিন ভবনের জমি নিয়ে ২০১৯সাল থেকে খুলনা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা (দেওয়ানী ৩৪/১৯) এবং খুলনা ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী ৭৮/২১ মামলা চলমান রয়েছে। কিন্তু জমির মালিক দাবিদার শাকিল আহমেদ রাজা গংরা ও নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রীনবাংলা হাউজিং কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলার বিষয়টি গোপন রেখে কেডিএ’র কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজশে প্লানের অনুমোদন নেয়। কিন্তু আদালতে মামলা চলমান থাকাকালীন জমিতে কিভাবে কেডিএ কর্তৃপক্ষ ভবন নির্মাণের প্লান ও নকশার অনুমোদন দিলো সে বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। মামলা চলমান থাকা জমিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্লান অনুমোদনের বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

খুলনার নাগরিক সমাজের নেতা এডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, গৃহ নির্মাণ নীতিমালা ও কেডিএ-এর অনুমোদিত নকশার বাইরে যদি কোন ভবন মালিক বা প্রতিষ্ঠান কাজ করে তাহলে তা অবশ্যই অপরাধ। সেই সাথে কেডিএ কর্তৃপক্ষ ভবন মালিককে নোটিশ দেয়ার পরেও কোন জবাব না দেয়া এবং অবৈধ অংশ অপসারণ না করায় এখানে ভবন মালিকের দৃষ্টতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে কেডিএ কর্তৃপক্ষের উচিত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া। যে ব্যবস্থা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ইতিমধ্যে কেডিএ’র অনেক কঠোর পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। আশা করি এ ক্ষেত্রেও কেডিএ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। কারণ অনুমোদিত নকশার বাইরে বহুতল ভবন নির্মাণ করলে আধুনিক খুলনা সিটি গড়ার যে পরিকল্পনা তা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হবে বলেও তিনি মনে করেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: BD IT SEBA