রবিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দৈনিক খুলনা টাইমস এখন ৬ষ্ঠ বর্ষে খুলনা ডিএনসির অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার খুলনার সবজির বাজারে দামে স্বস্তি;কমেছে গোশ ও মাছের দাম  নির্বাচনের ট্রেন চলছে, কেউ থামাতে পারবে না : ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনা আমাকে এমপি না, জনতার সেবা করতে পাঠিয়েছেন : এস এম কামাল হোসেন ডলারের দাম আরও কমলো খুলনায় কয়লা ও গ্যাসসহ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিশ্বব্যাপী নিরাপদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিকী প্রদর্শন খুলনা—১ আসন: জনগণের জন্য কাজ করতে চান সাবেক এমপি ননী গোপাল নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আহসান হাবিব খান (অব:) এর খুলনা সফরসূচি বিএনপি নেতার ভাইয়ের ইন্তেকালে শোক

খুলনায় গ্রীনবাংলা হাউজিংয়ের প্লান বহির্ভূত নির্মিত ভবন অপসারণে কেডিএর নোটিশ 

মো. শহীদুল হাসান :
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৫ জুলাই, ২০২৩
  • ২২৬ পড়েছেন

♠ ফলোআপ : দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের প্রতিক্রিয়া 

নগরীর শেরেবাংলা রোডে গ্রীনবাংলা হাউজিংয়ের প্লান বহির্ভূত নির্মিত ভবন অপসারণে পূনরায় নোটিশ দিয়েছে কেডিএ কর্তৃপক্ষ। খুলনা উন্নয়ন কতৃর্পক্ষ (কেডিএ) গত ২৬ জুন নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ না করায় জমির মালিক শাকিল আহমেদ রাজা গং ও গ্রীনবাংলা হাউজিংসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ প্রদান করেন। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলা না হলে নকশা বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের ৩০৩ শেরেবাংলা রোডে জাফির টাওয়ার নামে সেমি বেজমেন্টসহ ৯তলা বাণিজ্যিক-কাম আবাসিক বহুতল ভবন নির্মাণ কাজের অনুমোদন দেয়া হয়। নির্মাণ কাজের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবনের সামনে শেরে বাংলা রোডের দিকে ৫ ফুট, ভবনের দক্ষিণ দিকে রাস্তা সম্প্রসারণসহ ১২ ফুট ১০ ইঞ্চি, ভবনের উত্তর দিকে ৪ ফুট খালি জায়গা রেখে এবং সেমি বেজমেন্টসহ ভবন নির্মাণের নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু গ্রীণবাংলা হাউজিং কেডিএর অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবনটি নির্মাণ না করে অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও জমির মালিক শাকিল আহমেদ রাজা গংরা ভবনের সামনে শেরে বাংলা রোডের দিকে ৫ ফুটের কম জায়গা খালি রেখেছে। ভবনের দক্ষিণ দিকে রাস্তা সম্প্রসারণসহ ১২ ফুট ১০ ইঞ্চি স্থলে মাত্র ৪ ফুট জায়গা রেখে নির্মাণ কাজ করেছে। এছাড়া ভবনের উত্তর দিকে ৪ ফুটের স্থলে ৩ ফুট ৩ ইঞ্চি জায়গা রেখে ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রেখেচেলমান রেখেছে। এমনকি নকশা অনুমোদনে ভবনটিতে সেমি-বেজমেন্ট নির্মাণের নির্দেশনা থাকলেও তা করা হয়নি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে কেডিএ কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শনে নকশা বহির্ভূত নির্মাণ কাজ করার সত্যতা পায়। পরে গত ১১ এপ্রিল কেডিএ কর্তৃপক্ষ জমির মালিক শাকিল আহমেদ রাজা ও গ্রীনবাংলা হাউজিংসহ সংশ্লিষ্টদের অননুমোদিত স্থাপনা ০৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশসহ শোকজ নোটিশ দেয়। কেডিএ কর্তৃপক্ষের শোকজ নোটিশ পাওয়ার প্রায় ৩ মাস সময় অতিবাহিত হলেও গ্রীণবাংলা হাউজিং ও শাকিল আহমেদ রাজা গংরা নোটিশের কোন জবাব দেয়নি। পরবর্তিতে সরেজমিন দেখা যায়, তারা খেলাপী নির্মাণ কাজ বন্ধ না করে একতলার আরসিসি পিলারসহ নির্মাণ কাজ চালু রেখেছে। যার ফলে কেডিএ কতৃর্পক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অননুমোদিত স্থাপনা ভেঙে ফেলাসহ ভবন নির্মাণের নকশা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা। একই সাথে নোটিশে ওজোপাডিকো খুলনার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ করা হয়েছিলো।

এদিকে, জমির মালিক শাকিল আহমেদ রাজা ও গ্রীনবাংলা হাউজিংসহ সংশ্লিষ্টরা শোকজ নোটিশের জবাব যথাসময়ে না দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেডিএর কর্মকর্তারা। যার প্রেক্ষিতে গত ২৬ জুন কেডিএ কর্র্র্তৃপক্ষ পূনরায় অনুমোদিত নকশার খেলাপী নির্মাণ কাজ ভেঙে ফেলাসহ আপসারণের নোটিশ প্রদান করে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে,“১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইন (১৯৫৩ সনের ২নং ইবি আইন), ১৯৮৭ সনের ইমারত নির্মাণ (সংশোধন) আইন এর ৩ বি (৩) ধারা অনুসারে আগামী ২০ জুলাই ২০২৩ তারিখের মধ্যে অনুমোদিত নকশার খেলাপী নির্মাণ কাজ ভেঙে ফেলাসহ আপসারণের জন্য আপনাকে নির্দেশ দেওয়া হলো। অন্যথায় অনুমোদিত নকশা বাতিল করে খেলাপী নির্মান কাজ সম্পূর্ণরুপে ভেঙ্গে ফেলাসহ অপসারণ করা হবে এবং এতে কেডিএ’র যে খরচ হবে তা আদায়সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।”

ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রীনবাংলা হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল শেখ জানান, নগরীর ৩০৩ শেরেবাংলা রোডে জাফির টাওয়ার ভবনটির জমিটি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান ছিলো। পরে মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ায় কেডিএ থেকে পুর্বের অনুমোদিত প্লান সংশোধন পূর্বক পুণঃ অনুমোদনের আবেদন করা হয়। কেডিএ কর্তৃপক্ষ আবেদন গ্রহণ করে পূর্বের অনুমোদন সংশোধনপূর্বক পুনরায় ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু পুণঃঅনুমোদনের চূড়ান্ত কপি আমরা এখনও হাতে পায়নি। তবে দ্রুতই কেডিএ থেকে অনুমোদনের রিভাইজ কপি পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, ভবনের নির্মাণ কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। অনুমোদনের কপি পাওয়ার পর পুনরায় কাজ শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেডিএর একাধিক কর্মকর্তা জানান, কেডিএর অনুমোদিত কোন নকশার শর্ত ভংগ করে খেলাপী নির্মাণ কাজ করলে সে নকশা সংশোধন পূর্বক পুণঃ অনুমোদনের কোন সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভবন নির্মাণকারীকে অনুমোদিত নকশার খেলাপী নির্মাণ কাজ ভেঙে ফেলাসহ আপসারণ করতে হবে। এছাড়া কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই অন্যথায় অনুমোদিত নকশা বাতিল করা হবে।

জাফির টাওয়ারের জমির মালিক শাকিল আহমেদ রাজা জানান, কেডিএ তো প্রতিদিনই নোটিশ দিচ্ছে। আর কেডিএ থেকে আমি কোন নোটিশ পাই না। আর এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি সম্পর্কে ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রীনবাংলা হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল শেখ ভালো বলতে পারবেন। সকল দ্বায়িত্ব তার। তিনিই সব দেখভাল করছেন বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল কেডিএ কর্তৃক গ্রীনবাংলা হাউজিংয়ের প্লান বহির্ভূত নির্মিত ভবন অপসারণে নোটিশ প্রদানের বিষয়ে গত ১৮ জুন দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকায় “খুলনায় গ্রীনবাংলা হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে প্লান বহির্ভূত ভবন নির্মানের অভিযোগ” শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর কেডিএ কর্তৃপক্ষ গত ২৬ জুন গ্রীনবাংলা হাউজিং এবং জমির মালিকদের পূণরায় প্লান বহির্ভূত নির্মিত ভবন অপসারণে চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরনের আরো সংবাদ

Categories

© All rights reserved © 2019 LatestNews
Hwowlljksf788wf-Iu