বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

খুলনায় হাউজিং মালিকের বিরুদ্ধে বাড়ি ভাঙচুর ও জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

দেশ প্রতিবেদক :
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২২৬ পড়েছেন

খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা ও নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে গ্রীনবাংলা হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল শেখ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার আব্দুল গণি সড়ক (ট্রাক স্ট্যান্ডের বিপরীতে) এ ঘটনা ঘটে।
দূর্বত্তরা এসময়ে নির্মাণাধীন বাড়ীর গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে বাড়ীর দেয়াল ভাংচুর করে। বাড়ীর মালিক ডা. মোঃ নূরে আলম ও তার স্ত্রী তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাদের জীবন নাশের হুমকি প্রদান করে। এসময়ে ভূক্তভোগীদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৫ ফেব্রুয়ারী জমির মালিক ভুক্তভোগী ডা. মোঃ নূরে আলম বাদী হয়ে অভিযুক্ত মো. রাসেল শেখসহ ৮ জনের নাম এবং অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ডাঃ মোঃ নূরে আলম ক্রয়সূত্রে সোনাডাঙ্গা থানার ৭৩/১০, আব্দুল গণি সড়কে বানিয়াখামার মৌজার বি আর এস ৬২৪৩নং খতিয়ানের ১৪৫৮ নং দাগের ১২.১৯ শতক জমির মালিক। উক্ত জমিতে দীর্ঘদিন ভোগদখলকারী থাকাবস্থায় গত ২০১৯ সালের ০৪ এপ্রিল ১নং-বিবাদী গ্রীনবাংলা হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রাসেল শেখের সাথে ভবন নির্মানের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। কাজের শুরুতে মো. রাসেল শেখ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী, যথাযথ পরিমাণ বা অনুপাত ব্যবহার না করে গোঁজামিল দিয়ে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করে। বিষয়টি ভূক্তভোগীর দৃষ্টিগোচর হলে রাসেল শেখকে একাধিকবার অবহিত করা হয়। কিন্তু তিনি এতে কর্ণপাত না করে বিগত ২০২০ সালের ২০ জুলাই সম্পত্তিতে কোন কাজ করতে ইচ্ছুক নয় মর্মে জমির মালিক ডা. নুরে আলমকে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করে তার সমুদয় মালামাল নিয়া চলে যান। পরে বিবাদী মো. রাসেল শেখ ভূক্তভোগী জমির মালিকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মানিস্যুট মামলা দায়ের করেন যার নং-১৮/২০২০। এছাড়াও ভূক্তভোগী ও তার স্ত্রীর নামে মিথ্যা চুরির মামলা দিয়ে নোটিশ গোপন করে ওয়ারেন্ট জারি করে। পরবর্তীতে আদালত মিথ্যা মামলা থেকে জমির মালিক ডা. নুরে আলম ও তার স্ত্রীকে অব্যহতি প্রদান করেন। এরপর বিবাদী রাসেল শেখ ও তার সহযোগীরা ২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল এবং ১৯ মে উক্ত জমিতে দলবলসহ অবৈধভাবে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করে। এসময়ে বিবাদীরা ভূক্তভোগীকে এবং তার পরিবারকে প্রাননাশের হুমকী প্রদান করে। এ বিষয়ে ভূক্তভোগী ডা. নুরে আলম ২০২১ সালের ২৪ মে সোনাডাঙ্গা থানায় জিডি করেন যার নম্বর-১৩৭০। এছাড়াও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খুলনা ‘ক’ অঞ্চলে মামলা করে (যার নং এম পি ১৫৪/২০২১)। তারপরও বিবাদী রাসেল শেখ তার পালিত সন্ত্রাসী আবুল কালাম আজাদ ও সহযোগীদের নিয়ে ২০২২ সালের ০৬ জুলাই রাতে জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে পুনরায় দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এলাকাবাসীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ভূক্তভোগী ডা. নুরে আলম তার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য বিজ্ঞ আদালতে ১০৭ ধারায় মামলা (মামলা নং-২৫০/২০২২) করলে বিবাদী রাসেল শেখসহ তার সহযোগীরা ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না বলে আদালতে মুচলেকা প্রদান করে। সর্বশেষ গত ১৪ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ১নং বিবাদী রাসেল শেখসহ ফরহাদ হোসেন রুবেল, গ্রীণবাংলা হাউজিংয়ের কম্পিউটার অপারেটর রিহাব উদ্দিন, গ্রীণবাংলা হাউজিংয়ের কর্মচারী মো. শান্ত ও জলিল, আবুল কালাম আজাদ, ইমাদুল হক, মো. মুস্তাকিন সহ তাদের সহায়তায় আনুমানিক ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী ভূক্তভোগীর নির্মাণাধীন বাড়ীতে পুনরায় প্রবেশ করে বাড়ী-ঘর ভাংচুর করে এবং ভূক্তভোগীর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী ১৫ ফেব্রুয়ারী বাদী হয়ে অভিযুক্ত মো. রাসেল শেখসহ ৮ জনের নাম এবং অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারী (বুধবার) সন্ধ্যায় গ্রীণবাংলা হাউজিংয়ের রাসেল ও তার সহযোগীরা প্রায় ৩০-৩৫ জন এসে জোরপূর্বক গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে ডা. নুরে আলমের নির্মাণাধীন বাড়ীর দেয়াল ভেঙে ফেলে। সন্ত্রাসীরা এসময়ে ডা. নুরে আলম ও তার স্ত্রীকে মারতে উদ্যত হয়। তাদের চিৎকারে এলাকাবাসীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসী গ্রুপটি চলে যায়। এর আগেও এসব সন্ত্রাসীরা এ জমিটির অবৈধ দখল নেয়ার জন্য চেষ্টা করেছিলো বলেও তারা জানান।
গ্রীন বাংলা হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ রাসেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ডা. নূরে আলম আমার সাথে বাড়ি নির্মাণের চুক্তি করেছিলেন। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল আমরা ডেভেলপার কোম্পানি ৭৫ শতাংশ এবং জমির মালিক ২৫ শতাংশ পাবে। আমি কাজ শুরু করার কিছুদিন পরেই জমির মালিক ডা. নুরে আলম আমার কাজে আপত্তি জানান। পরবর্তীতে জানতে পারি ওনাকে অন্য কেউ আমাদের চেয়ে বেশি দেয়ার লোভ দেখিয়েছেন। যার ফলে উনি আমাদের কাজের আপত্তি জানান। এ জমি নিয়ে আদালতে তিনটি মামলা চলমান আছে। এরপরেও তিনি জোর করে ওই জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছেন। আমি শুধু তাকে বাধা দিয়েছি এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। ইতিমধ্যে আমি কাজ বন্ধ রাখার জন্য খুলনার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারা একটি মামলা করেছি। দু-একদিনের মধ্যেই এর কাগজ থানায় যাবে।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অহিদুজ্জামান জানান, ভূক্তভোগী ডা. নুরে আলম একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে এএসআই মৃণালকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই যথাযথ আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এধরনের আরো সংবাদ

Categories

© All rights reserved © 2019 LatestNews
Hwowlljksf788wf-Iu