• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

×
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত রামপালে কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে উত্যাক্তের প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে মা মেয়ে আহত অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো “সবুজ পৃথিবীর সন্ধানে” প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান খুলনায় তিনদিনের কর্মসুচি – শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী খুমেক হাসপাতালের সামনে থেকে ৯টি দেশি অস্ত্র উদ্ধার যশোরে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন “ত্রান চাইনা,টেকসই বেড়িবাঁধ চাই”  সরকার জরুরী ভিত্তিতে বেঁড়িবাঁধ সংস্কার করে জলবন্দি মানুষদের মুক্ত করবে-ভুমিমন্ত্রী  ঘূর্নিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছেন সরকার-ত্রান প্রতিমন্ত্রী মোঃ মহিববুুর রহমান পাউবোর ব্যর্থতায় সহস্রাধিক মানুষের সেচ্ছাশ্রমে মেরামতের পর পরই ভেঙে গেল কয়রার বেঁড়িবাঁধ পরমানু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার জন্মবার্ষিকী খুলনায় ‘দেশের অগ্রগতিতে বিজ্ঞান চর্চা’ শীর্ষক আলোচনা সভা

ফলোআপ—২; ধামাচাপায় বনমালী হত্যা মামলা

  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ৪ মে, ২০২৪
  • ৪৬ পড়েছেন

খুলনার রেলষ্টেশন এলাকার ফল ব্যবসায়ী বনমালী মন্ডল গত বছর নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন। নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেন। কিন্তু নিহতের ভাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদনের অভিযোগ উঠেছে। বনমালী হত্যা, মামলা দায়ের এবং মূল ঘটনার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকরা তথ্য। নিহত বনমালীর ম্যানেজারের রহস্যজনক কার্যক্রমকে নিয়ে থাকছে এ প্রতিবেদন। বর্তমানে নিহত বনমালীর ম্যানেজার চাকুরী করছেন কদমতলার ঘোষ ট্রেডার্সে। ঘোষ ট্রেডার্সের মালিক অমিত ঘোষ। ঘটনাসূত্রে, কয়রা উপজেলার ৬নং কয়রার বাসিন্দা যতীন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে ব্যবসায়ী বনমালী মন্ডল (৪২) ২০২৩ সালের ২৫শে জুন নিখোঁজ হন। পরদিন ২৬ জুন সকালে খুলনা রেলওয়ে ইয়ার্ডে ব্যবসায়ী বনমালীর লাশ লোকজন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। কিছুদিন পর নিহতের স্ত্রী সীমান্তী মন্ডলকে না জানিয়েই নিহতের ভাই কেশব মন্ডল বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এই কেশব মন্ডলই হত্যা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। অমিত ঘোষ প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ সূত্রে, নিহত বনমালী মন্ডলের ভাই কেশব মন্ডল অমিতের কথা মতো মামলা প্রত্যাহার এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত। যার ফলে অনেক টাকা পেয়েছেন কেশব মন্ডল। নিহত বনমালী মন্ডলের ম্যানেজার হেমন্ত অভিযুক্ত আসামী অমিত ঘোষের প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছেন। হেমন্ত বনমালী এবং অমিত ঘোষের গোপন দ্বন্দ্বটি জানতেন। তবে গত বছরের ২৬শে জুন খুলনা মেডিকেল কলেজে অবস্থানকালে ম্যানেজার হেমন্ত এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বনমালী দাদার সাথে অমিত ঘোষের একটি চেক নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিলো। কিছুদিন আগে বাজার সমিতির মাধ্যমে শালিশ—বৈঠকও করা হয়। এর বেশিকিছু আমি জানি না বলে তিনি এড়িয়ে যান। অনুসন্ধানের একাধিক সূত্রে, নিহত বনমালীর স্ত্রী সীমান্তি মন্ডল প্রায় সাত বছর অভিযুক্ত অমিত ঘোষের বাসায় অবস্থান করে খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করেছেন। বনমালী দীর্ঘ দশ বছর অভিযুক্ত অমিত ঘোষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেছেন। অমিত ঘোষই সীমান্তির সাথে বনমালীর বিবাহ দেন। বিয়ের পর বনমালীর বেতন বাড়িয়ে প্রায় ষাট হাজার টাকা নির্ধারন করেন অমিত ঘোষ। কিন্তু হঠাৎ করেই অমিত ঘোষের সাথে বনমালীর মনোমালিন্য হয় এবং বনমালী মন্ডল রেলস্টেশন এলাকায় নিজেই ধার—দেনা করে পদ্মা বানিজ্য ভান্ডার নামে নিজ প্রতিষ্ঠান চালু করেন । তবে বিয়ের পর থেকেই গোপন একটি বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিবাদে লিপ্ত হতেন সীমান্তি মন্ডল এবং বনমালী বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। অভিযোগ সূত্র বলছে, বনমালী হত্যাকান্ডে অনেকেই জড়িত। বনমালী নিেঁখাজের ২/৩ দিন আগে বনমালীর স্ত্রী সীমান্তি চলে যান বড় ভাইয়ের বাসায়। সীমান্তি ঘটনার দিন জানান, বনমালী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য বটিয়াঘাটা গেছেন। দুপুরের পর থেকে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ঘটনার দিন কাঁকতালীয়ভাবে বনমালী মন্ডলের বড় ভাই কেশব মন্ডল খুলনায় হাজির হন। কিন্তু কয়রা থেকে খুলনা আসতে সর্বনিম্নে চার ঘন্টা সময় লাগে। আর বনমালীকে না পাওয়ার বিষয়টা বিকাল পাঁচটার সময় সবাই জানতে পারলেও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কেশব মন্ডল কয়রা থেকে খুলনায় এতো দ্রুত কীভাবে উপস্থিত হলেন? এদিকে, ২৫ শে জুন বনমালী হটসএপ ম্যাসেজে তার ম্যানেজারকে জানান যে, তাকে কে বা কারা আটক করে রেখেছে। পরদিন বনমালীর লাশ উদ্ধার হলেও তার ব্যবহৃত ফোন এবং মানিব্যাগ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গত বছরের ২৮ শে জুনের পর থেকে নিহত বনমালীর ম্যানেজার হেমন্তকে প্রায় পাঁচ মাস খুজে পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করে তিনি অভিযুক্ত অমিত ঘোষের প্রতিষ্ঠানেই ম্যানেজার পদে চাকুরীতে যোগদান করেছেন। যা পুরোটাই আশ্চর্যজনক। খবর বলছে, নিহত বনমালীর সাথে তার সাবেক কর্মস্থল ঘোষ ট্রেডার্সের মালিক অমিত ঘোষের প্রায় তিন বছর ধরে একটি গোপন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিলো। মনোমালিন্যের বিষয়টি নিহত বনমালীর ম্যানেজার হেমন্ত জানতেন। হেমন্ত প্রায়ই বনমালীর গতিবিধি এবং ব্যবসা সংক্রান্ত গোপন তথ্য, অর্থের বিনিময়ে অমিত ঘোষকে প্রদাণ করতেন। এদিকে, নিহত বনমালী মন্ডল অমিত ঘোষ সংশ্লিষ্ট একটি গোপন বিষয় অবগত হন। যা নিয়ে বিব্রত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন অমিত ঘোষ। যা নিয়ে বনমালী এবং অমিতের মধ্যে এক তরফা দ্বন্দ্ব—ফ্যাসাদ হয়। আর পুরো ঘটনাটি ম্যানেজার হেমন্ত জানতেন। প্রভাব এবং অর্থের জোরে অমিত ঘোষ দমিয়ে রাখছিলেন বনমালীকে এবং কালক্রমে বনমালীর স্পর্সকাতর একটি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে অমিত ঘোষ দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছিলেন। চলবে………

সংবাদটি শেয়ার করুন

এধরনের আরো সংবাদ

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: BD IT SEBA