• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

×
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত রামপালে কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে উত্যাক্তের প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে মা মেয়ে আহত অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো “সবুজ পৃথিবীর সন্ধানে” প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান খুলনায় তিনদিনের কর্মসুচি – শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী খুমেক হাসপাতালের সামনে থেকে ৯টি দেশি অস্ত্র উদ্ধার যশোরে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন “ত্রান চাইনা,টেকসই বেড়িবাঁধ চাই”  সরকার জরুরী ভিত্তিতে বেঁড়িবাঁধ সংস্কার করে জলবন্দি মানুষদের মুক্ত করবে-ভুমিমন্ত্রী  ঘূর্নিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছেন সরকার-ত্রান প্রতিমন্ত্রী মোঃ মহিববুুর রহমান পাউবোর ব্যর্থতায় সহস্রাধিক মানুষের সেচ্ছাশ্রমে মেরামতের পর পরই ভেঙে গেল কয়রার বেঁড়িবাঁধ পরমানু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার জন্মবার্ষিকী খুলনায় ‘দেশের অগ্রগতিতে বিজ্ঞান চর্চা’ শীর্ষক আলোচনা সভা

সিআইডি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ; গড়েছেন সম্পদের পাহাড়

  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ৪ মে, ২০২৪
  • ১৮৮ পড়েছেন

#গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট 

#টার্গেট ব্যবসায়ী এবং চোরাকারবারীরা

নাম নুরুল আমিন। যশোর সিআইডি পুলিশের এক সময়ের এএসআই। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু কর্মস্থল সাতক্ষীরা হলেও তিনি যশোরেই পড়ে থাকেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের চোখ ফাকি দিয়ে তিনি যশোরে এসে মাসোয়ারা তোলেন। মাসে অন্তত ২০/২৫ দিনই তিনি যশোরের দিকে থাকেন। বিশেষ করে ভারতীয় অবৈধ পণ্য বেঁচা—বিক্রির স্থানগুলোতে তার রয়েছে ব্যাপক বড় সিন্ডকেট। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার বিরুদ্ধে নানান তথ্য। তার কর্মস্থল সাতক্ষীরা সিআইডি অফিসের দায়িত্বশীলদের ম্যানেজ করে তিনি দিব্যি যশোরে অবস্থান করেন। এ যেন “শস্যের মধ্যে ভূতের খেলা”।

অভিযোগ সূত্রে, এএসআই নুরুল আমিন প্রায় এক যুগ যশোর সিআইডিতে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতি করেছেন। গড়ে তুলেছেন বিশাল বড় একটি সিন্ডিকেট। তিনি অবৈধ ব্যবসায়ী ও ভেজাল কারবারিদের কাছ থেকে মাসিক চুক্তিতে টাকা উত্তোলন করতেন। বিশেষ করে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই টাকা আদায় করতেন তিনি। এছাড়াও, তিনি যশোর সদরসহ জেলার বাকী ৮ টি থানা এলাকায় আদায়কারী নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের কাছ থেকে সিআইডির নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায় করতেন। প্রায় একযুগ যশোরে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তিনি যশোর জেলাব্যাপী এক বিশাল নেটওয়ার্ক ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। যার কারনেই বর্তমানে তিনি মাসের বেশিরভাগ সময় যশোরে ঘুরে চাঁদা আদায় করেন। পরবর্তীতে এএসআই নুরুল আমিনকে যশোর থেকে বদলী করা হয় সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, ও অন্যান্য জেলায়। খুলনার শিল্প পুলিশেও এক সময় তিনি কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা সিআইডি পুলিশে কর্মরত আছেন। তিনি সপরিবারে যশোর মুজিব সড়কস্থ জাগরণী চক্রের সামনে ‘নকশি মেটালের’২য় তলায় ভাড়া একটি ফ্লাটে বসবাস করেন। এমনকি সিলেট হবিগঞ্জসহ সহ অন্যান্য জেলায় ও খুলনার শিল্প পুলিশে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তিনি মাসে একাধিকবার যশোরে আসতেন।

তথ্য সূত্রে, সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ দেখে তার অবস্থান একাধিকবার নিশ্চিত করা হয়েছে। অবৈধ অর্থ দিয়ে নুরুল আমিন খুলনার লবণচরার শিবেরহাট এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিরাট বাড়ি এবং বিশাল সম্পদের পাহাড়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে ছাড়াও তার স্ত্রী আসমা আমিনের নামে কিনেছেন যশোর ও খুলনায় অনেক সম্পত্তি। এছাড়া যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে জমি ও ঝাঁপা বাওড় ব্যবসায়ীদের কাছে কয়েক কোটি টাকা লগ্নি করেছেন নুরুল আমিন। তার স্ত্রী আসমা আমিনের নামে বেনামে রয়েছে চুক্তি নামা স্ট্যাম্প ও দলিল পত্র। যে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তিনি মোটা অংকের অর্থ লগ্নি করেছেন। তাছাড়া অবৈধ উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি যে সম্পদ গড়েছেন সেই সম্পদের মালিক বানিয়েছেন তার আত্মীয় স্বজনের।

অনুসন্ধানের সূত্রে, যশোর সদরসহ জেলার অন্যান্য থানা এলাকায় তার ৮০ থেকে ৯০ জন আদায়কারী রয়েছেন। তারা স্ব স্ব থানা এলাকার বিভিন্ন মাদক ও ভারতীয় অবৈধ পণ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে একই কায়দায় সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে টাকা তুলে এএসআই নুরুল আমিনকে প্রদান করেন। এইসব আদায়কারীরা হলেন—বেনাপোলের অবৈধ স্বর্ণ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নাছির এবং কসমেটিক্স ও অন্যান্য ভারতীয় পণ্য ব্যবসায়ীদের আদায়কারী সোহাগ। মণিরামপুরের আদায়কারী প্রভাত, কেশবপুরে আব্বাস, অভয়নগরে হাসানসহ আরও কয়েকজন, চৌগাছায় জসিম, শার্শায় ইছা, ঝিকরগাছা ইছাক ও সোহাগ। এছাড়া বেনাপোলে রয়েছে তার ডজনখানিক আদায়কারী সদস্য। এখানে কয়েকটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে আদায় করেন লাখ লাখ অবৈধ টাকা।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এএসআই নুরুল আমিন সাতক্ষীরায় কর্মরত হলেও তিনি যশোর সিআইডিতে কর্মরত পরিচয় দিয়ে সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে এই অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করেন। যশোর শহরের বড় বাজার থেকে শুরু করে জেলার প্রায় ৫ শতাধিক বিভিন্ন অবৈধ কারবারিদের স্পট থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা উৎকোচ আদায় করছেন। এছাড়া বিভিন্ন কৌশলে উপায়ে অসাধু কিছু তার অনুসারী এসআই ও এএসআই পুলিশ সদস্যদের নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ মালামাল আটকে চাঁদাবাজি করছেন।

যশোর শহরের বড় বাজারের সূত্রে, বর্তমানে যারা ভারতীয় পণ্য সামগ্রী বেচাকেনা করছেন তাদের কাছ থেকে সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তা দাবি করে এএসআই নুরুল আমিন মাসে অন্তত ১০ লাখ টাকা উৎকোচ আদায় করছেন। বড় বাজার এলাকায় ফেন্সি মার্কেট, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী,, জুয়া, কাপড়, পটকাবাজী, আতশবাজি, ভারতীয় জিরা,এলাচসহ বিভিন্ন মসলা ব্যবসায়ী, হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী, ভারতীয় পণ্য আনা—নেয়ার কাজে নিয়োজিত নারী, পুরুষদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে এই টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন ভেজাল কারবারিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন। বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীকে এই টাকা আদায়ের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। এই টাকা আদায় করে থাকেন বড়বাজার এলাকার কসমেটিক কাপড় ব্যবসায়ী আব্বাস, ও কসমেটিক্স ব্যবসায়ী কালু। এরাই সব অবৈধ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তুলে নুরুল আমিনের কাছে পৌছে দেন। আর এ জন্য মাসের বেশির ভাগ সময় তাকে যশোর শহরের বড় বাজার ও রেল স্টেশন এলাকায় মহিলা চোরাকারবারীদের ধরতে বসে থাকেন। যশোর শহরের বড়বাজার ছাড়াও বেনাপোল, নাভারন, শার্শা, বাগআচড়া, ঝিকরগাছা চৌগাছা অভয়নগর মনিরামপুর ও কেশবপুর এলাকার অবৈধ কারবারিদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে কৌশল ও ভয়ভীতি দেখিয়ে উৎকোচ আদায় করে থাকেন। যশোর শহরের বড়বাজার এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী আব্বাস, জানে আলম,খালিদকে নুরুল আমিন তার অবৈধ আয়ের টাকা থেকে সিংহভাগ টাকা দিয়ে এই তিন ব্যবসায়ী সহ আরো ৫/৬ ব্যবসায়ীকে তার অবৈধ উপার্জিত টাকা দিয়ে ভারতীয় কাপড় টাকা ভারতীয় কাপড়ের ব্যবসা করান নুরুল আমিন। চোরাকারবারিদের টোকেন ও স্লিপের মাধ্যমে তিনি মাসিক হিসাব—নিকাশ করে থাকেন।

যশোর সিআইডির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এএসআই নুরুল আমিন যশোর সিআইডিতে প্রায় ৫ বছরের অধিক সময় নেই। কিন্তু তার চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ড কোনদিন বন্ধ হয়নি। তিনি সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ সহ অন্যান্য জেলায় ও বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা সিআইডিতে দায়িত্ব পালন করলেও যশোর সিআইডির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জেলার বিভিন্ন অবৈধ কারবারিদের কাছ থেকে মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা উৎকোচ আদায় করছেন।

সচেতন নাগরিক সমাজ নেতারা মনে করছেন, সিআইডি পুলিশের পরিচয়দান করে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রন করা প্রয়োজন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন যশোরবাসীর পক্ষ থেকে।

যশোর সিআইডির পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, নুরুল আমিন নামে তার কোন পুলিশ কর্মকর্তা এখানে নেই। আর এ ধরনের দায়িত্ব পালন করার প্রশ্নই আসে না। এধরনের কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, ধরনের একজনের নাম শুনেছিলাম তবে তিনি সাতক্ষীরায় সিআইডিতে আছেন বলে জেনেছি। আপনারা সাতক্ষীরা জেলায় খোজ নিয়ে অভিযোগ করতে পারেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে নুরুল আমিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, যশোরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক কারবারি, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টরারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। বিগত কয়েক বছর যশোরের পুলিশ প্রশাসন কঠোরভাবে এই নীতি পালন করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এধরনের আরো সংবাদ

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: BD IT SEBA