• E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

×
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত রামপালে কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে উত্যাক্তের প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে মা মেয়ে আহত অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো “সবুজ পৃথিবীর সন্ধানে” প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান খুলনায় তিনদিনের কর্মসুচি – শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী খুমেক হাসপাতালের সামনে থেকে ৯টি দেশি অস্ত্র উদ্ধার যশোরে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন “ত্রান চাইনা,টেকসই বেড়িবাঁধ চাই”  সরকার জরুরী ভিত্তিতে বেঁড়িবাঁধ সংস্কার করে জলবন্দি মানুষদের মুক্ত করবে-ভুমিমন্ত্রী  ঘূর্নিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছেন সরকার-ত্রান প্রতিমন্ত্রী মোঃ মহিববুুর রহমান পাউবোর ব্যর্থতায় সহস্রাধিক মানুষের সেচ্ছাশ্রমে মেরামতের পর পরই ভেঙে গেল কয়রার বেঁড়িবাঁধ পরমানু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার জন্মবার্ষিকী খুলনায় ‘দেশের অগ্রগতিতে বিজ্ঞান চর্চা’ শীর্ষক আলোচনা সভা

খুলনায় খাল দখল করে কেডিএ সদস্যের ভবন নির্মাণ

  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৮ মে, ২০২৪
  • ২৮২ পড়েছেন

#  সরিষার ভেতরে ভূত 

# খাল ভরাট করে ভবন; পরিবেশ হুমকির মুখে

খুলনাকে বাসযোগ্য ও পরিবেশ বান্ধব নগরী গড়ার পরিবর্তে চলছে জলাধার ভরাট আর দখলের সংস্কৃতি। খাল ভরাট করে ভবন নির্মাণ করায় নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশ। এখানে যেন দেখেও দেখার কেউ নেই। সেই সাথে নগরীতে ভবন নির্মাণে চলছে আইন না মানার প্রতিযোগিতা। এমনই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন কেডিএ’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী। 

প্রবাদ আছে- “সরিষায় ভূত পালায়, আর সেই সরিষার ভেতরেই যদি ভূত থাকে তাহলে ভূত তাড়াবে কে?” এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-তে। কেডিএ’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য প্রকৌশলী শেখ শওকত আলীর বিরুদ্ধে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় সরকারী খাল দখল করে কেডিএ’র নকশা বর্হিভূত ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে।

শেখ শওকত আলী পেশায় প্রকৌশলী হওয়ার সুবাদে কেডিএ’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তিনি নিরালা আবাসিকের ১৮নং রোডের ৩৫৫নং হোল্ডিংয়ের প্লটটি কেডিএ থেকে বরাদ্দ পান। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে তিনি কেডিএ’র নিয়মকে অমান্য করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে খাল দখলের মাধ্যমে বাড়ি নির্মাণ করছেন। তার অবৈধ দখলবাজীতে উৎসাহী হয়ে প্রতিবেশীরাও একই ভাবে খাল ভরাট করে অবৈধ ভবন নির্মাণ করেছেন। এভাবেই চলছে নিয়ম ভঙ্গের অপসংস্কৃতি। ভূলুন্ঠিত হচ্ছে কেডিএ’র মাষ্টার প্লান। গত ২৮ এপ্রিল আবাসিক এলাকার শৃঙ্খলা রক্ষা, পানি নিস্কাশনসহ পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারী খাল দখল ও নকসা বর্হিভূতভাবে ভবন নির্মানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কেডিএ চেয়ারম্যান, গৃহায়ন ও গণপুর্ত প্রতিমন্ত্রী, খুলনা সিটি মেয়র, গৃহায়ন ও গণপুর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের সূত্রে ও সরেজমিন পরির্দশনে জানা গেছে, খুলনা নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের নিরালা আবাসিক এলাকা ও নির্জন আবাসিক এলাকার মাঝখান দিয়ে একটি সরকারী খাল বয়ে গেছে। এ খালের পাশ দিয়ে নিরালা আবাসিক এলাকার ১৮ নম্বর রোডের কয়েকটি প্লটের বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এ সকল প্লটের মধ্যে ৩৫৫নং হোল্ডিংয়ের মালিক কেডিএ বোর্ড মেম্বার ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল ও হাইড্রোলিক্স) শেখ শওকত আলী একটি ৯তলা ভবন নির্মাণ করছেন। তিনি ভবনটির পিছনের অংশে সরকারী খালের জায়গা ভরাট করে নকশা বর্হিভূত ও বেআইনিভাবে ভবনের বর্ধিতাংশ নির্মাণ করেছেন। কেডিএর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও মোংলা বন্দরের প্রধান প্রকৌশলীর ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম করে ভবন নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেডিএ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শেখ শওকত আলীর দেখাদেখি ১৮নং রোডের পাশ্ববর্তী ৩৫৭ ও ৩৫৮নং প্লট হোল্ডিংয়ের মালিকেরা তাদের ভবনের পিছনের অংশে সরকারী খালের জায়গা দখল করে কেডিএর অনুমতি না নিয়ে ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছে। একই সাথে কেডিএ’র মতো সরকারের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হয়েও অনুমোদন ছাড়া সরকারী খালের জায়গা দখল ও নকশা বর্হিভূতভাবে ভবন নির্মাণ করায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কেডিএ বোর্ড মেম্বারসহ ভবন মালিকদের ও কেডিএ সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময় মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করা হলেও ভবন মালিকরা নিয়মনীতির তেয়াক্কা না করেই নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যা কেডিএ’র পরিকল্পিত নগরী গড়ার চেষ্টাকে ব্যর্থ করছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। একই সাথে নিরালা আবাসিক এলাকায় কেডিএ বোর্ড মেম্বার প্রকৌশলী শেখ শওকত আলীসহ অবৈধ ভবন নির্মান ও খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবীও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে কেডিএ’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী জানান, তিনি কেডিএ’র নকশা অনুযায়ী ৯তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। নির্মাণ কাজের সময় কেডিএ’র পরিদর্শকরা তদারকি করেছেন। তবে পিছনের খালের জায়গা দখল করে বর্ধিতাংশ নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, আশেপাশের আরো অনেকেই খাল দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় তিনিও সেভাবেই করেছেন। এসময়ে তিনি কেডিএ’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য পরিচয় দিয়ে কেডিএ’র নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অবগত আছেন বলে জানান। কিন্তু কেডিএ’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে ভবন নির্মাণে স্বচ্ছতা বজায় না রেখে কেন সরকারী খাল দখল করে নিয়ম বর্হিভূতভাবে স্থাপনা করেছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন কেডিএ ও সরকারী প্রশাসন বললে তিনি ভবনের বর্ধিতাংশ ভেঙে ফেলবেন। তবে তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও খুলনার বিভিন্ন সাংবাদিকদের সাথে তার সখ্যতার কথা উল্লেখ করে ভবন নির্মাণে কোন অন্যায় ও অনিয়ম করেননি বলে জানান।

খুলনা সচেতন নাগরিক কমিটি ও নাগরিক আন্দোলনের নেতা এ্যাড. কুদরত-ই খুদা বলেন, রক্ষক হয়ে ভক্ষক হলে সেটা সবচেয়ে মারাত্নক অন্যায় কাজ। আইনের উর্ধ্বে কেউই না। সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। যদি কেডিএ’র সাথে সংশ্লিষ্ঠ বা কেডিএ’র নীতি নির্ধারক হন তাহলে তাকে আরও বেশী আইন মানতে হবে। তা না হলে অন্যরা তার দেখাদেখি ও তাকে অনুসরণ করে আইন ভঙ্গ করার কাজে উৎসাহিত হবে। আমরা সরকারী খাল সংরক্ষনে ও উদ্ধারে আমরা আন্দোলন করছি। সেখানে খাল দখল করে কেডিএ’র একজন নীতি নির্ধারক ভবন নির্মান করছে এটা খুবই অন্যায়। এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ ধরণের কাজ করে থাকলে সে জঘন্যতম অপরাধ করেছে। এ বিষয়টির তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন ও ভবনের নকশা বাতিলপূর্বক ভবন অপসারণ করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কেডিএ’র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মিরাজুল ইসলাম বলেন, কেডিএ’র আওতাভুক্ত এলাকায় কোন ভবন ও স্থাপনা নির্মান করতে হলে আইন ও বিধি বিধান মেনেই করতে হবে। কেডিএ’র বোর্ড মেম্বর বা ক্ষমতাধর যে কেউ হোক না কেন ভবন নির্মানের নকশা ও বিধিমালা না মানলে ছাড় দেয়া হবে না। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানান।

খাল দখল ও ভরাট করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক জানান, নিরালা আবাসিক এলাকায় যারা খাল দখল করে বাড়ী নির্মাণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখানে যেই হোক না কেন তাকে ছাড় দেয়া হবে না। নগরীর সব খাল সংরক্ষন ও উদ্ধারে সিটি কর্পোরেশন যে কোন পদক্ষেপ নিতে বদ্ধ পরিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এধরনের আরো সংবাদ

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: BD IT SEBA