×

বগুড়ার পাঁচটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত

  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ১৭ জুলাই, ২০২৩
  • ৩১৮ পড়েছেন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরব হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জামাতে ইসলাম। সারাদেশের মতো বগুড়ায় তারা প্রস্তুতি নিয়েছে এককভাবে। বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে তারা একক প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে দলটির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। বগুড়া জেলার সাতটি আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচটিতে তারা প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বাকি দুটির ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। দীর্ঘ ১০ বছর পর বগুড়ায় নির্বিঘ্নে মিছিল ও সমাবেশ করতে পারায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন।

আবদুল মালেক আরও জানান, জেলার সাতটি আসনের মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রার্থীরা হলেন-বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে সাবেক সংসদ-সদস্য ও জেলা শূরা সদস্য মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে সাবেক কাহালু উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা শূরা সদস্য মাওলানা তায়েব আলী, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে সাবেক শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দবিবুর রহমান এবং বগুড়া-৬ (সদর) আসনে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও শহর জামায়াতের আমির মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল। বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) ও বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি।

এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আলমগীর হুসাইন বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিল। সেখানে জামায়াতকে নেওয়া হয়নি। এ কারণে বিএনপির সঙ্গে জোটের ব্যাপারে আর কথা বলবেন না। একলা চলো নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কোনো কথা নেই। কোনো বিষয়ে সমঝোতা হলে বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি হতে পারে। দৃঢ়তার সঙ্গে মাওলানা আলমগীর হুসাইন আরও বলেন, তাদের যেসব শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে তারা কোনো যুদ্ধাপরাধ করেননি। কেউ এর প্রমাণ দেখাতে পারবেন না। সে সময় এ ব্যাপারে বিএনপি কোনো নিন্দা জানায়নি।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে চাঁদে সাঈদীকে দেখার গুজবে বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ নৃশংসতা ও পরবর্তী দুই বছর জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি পালনের পর জামায়াত-শিবির প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। দলীয় কার্যালয়গুলোতে তালা ঝুলছে। দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। সুইডেনে পবিত্র কুরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে ৭ জুলাই ওলামা মাশায়েক পরিষদের ব্যানারে তারা প্রকাশ্যে শোডাউন করেন। ওইদিন শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ থেকে বিশাল মিছিল বের করা হয়। প্রশাসন দলীয় ব্যানার ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় তারা এ কৌশল অবলম্বন করে। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে বলে দাবি জামায়াতের। আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ঘিরে নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাদের নারীকর্মীরাও বসে নেই। পাড়া-মহল্লায় পবিত্র কুরআন শেখানো ও ধর্মীয় কথা বলার অজুহাতে তারা দলীয় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। দুস্থ নারীদের নানাভাবে সহযোগিতা ও পরবর্তী সময়ে আরও কিছু করার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। পুরুষ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ও মসজিদে ধর্মীয় আলোচনার নামে দলীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। জানা গেছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবিধার্থে জামায়াত বগুড়ায় তাদের সংগঠনকে তিন ভাগে ভাগ করেছে। বগুড়া সদর উপজেলা ও বগুড়া পৌরসভাকে নিয়ে বগুড়া শহর জামায়াত, বগুড়া-১, বগুড়া-৫ ও বগুড়া-৭ আসন নিয়ে জামায়াত (পূর্ব) এবং বগুড়া-২, বগুড়া-৩ ও বগুড়া-৪ আসন নিয়ে জামায়াত (পশ্চিম) করা হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: BD IT SEBA